সিলেটের বিভিন্ন উপজেলায় পাহাড়ি ঢলে নিম্নাঞ্চল প্লাবিত | Sylhet i News
শনিবার, ২৫ জুন ২০২২, ০৭:০১ পূর্বাহ্ন



নিজস্ব প্রতিবেদন ::

প্রকাশ ২০২২-০৫-১৬ ০৫:৫২:৫২
সিলেটের বিভিন্ন উপজেলায় পাহাড়ি ঢলে নিম্নাঞ্চল প্লাবিত

টানা বৃষ্টি ও পাহাড়ি ঢলে জৈন্তাপুর, কানাইঘাট ও জকিগঞ্জ উপজেলার নিম্নাঞ্চল প্লাবিত হয়েছে।

জৈন্তাপুরে টানা বৃষ্টি ও পাহাড়ি ঢলে জৈন্তাপুর উপজেলার চার ইউনিয়ন প্লাবিত হয়েছে। সারী ও বড় নয়াগং নদীর পানি স্বাভাবিকের চেয়ে বিপৎসীমার দশমিক ৮৯ সেন্টিমিটার ওপর দিয়ে প্রবাহিত হয়েছে। গতকাল রোববার সরেজমিনে দেখা গেছে, গত কয়েক দিনের অব্যাহত বৃষ্টি ও পাহাড়ি ঢলে নিজপাট, জৈন্তাপুর, চারিকাটা ও দরবস্ত ইউনিয়নের বেশির ভাগ এলাকা পানিতে তলিয়ে গেছে। লোকজন গৃহপালিত পশু নিয়ে উঁচু স্থানে আশ্রয় নিয়েছে।

উপজেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি ও উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান কামাল আহমদ, উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা আল বশিরুল ইসলাম, সহকারী কমিশনার (ভূমি) রিপামনি দেবী, ইউপি চেয়ারম্যান ফখরুল ইসলাম, ইন্তাজ আলী, সুলতান করিম ও বাহারুল আলম বাহার বন্যাকবলিত এলাকাগুলোর সম্পর্কে খোঁজ-খবর রাখছেন।

ইউএনও আল বশিরুল ইসলাম ও উপজেলা চেয়ারম্যান কামাল আহমদ জানান, বন্যায় প্লাবিত এলাকাজুড়ে খোঁজ খবর রাখা হচ্ছে। পানি বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে এলাকার সচেতন মহলের মাধ্যমে সতর্কাবস্থা জারি করা হয়েছে।

এদিকে কানাইঘাটে উজান থেকে নেমে আসা পাহাড়ি ঢল আর টানা বৃষ্টিতে গতকাল রোববার সুরমা নদীর পানি বিপৎসীমার ৪৫ সেন্টিমিটার ওপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছিল। এ কারণে উপজেলা সদরে পানি ছিল অপরিবর্তিত। এ ছাড়া সুরমা নদীর ডাইক কানাইঘাটের বনগরিপুরসহ আরও কয়েকটি জায়গায় ভেঙে যাওয়ায় গ্রামাঞ্চলে পানি বেড়েছে। কানাইঘাট উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা সুমন্ত ব্যানার্জি জানান, কানাইঘাটে বন্যাদুর্গতদের মধ্যে বিতরণের জন্য জেলা প্রশাসকের কার্যালয় থেকে ১৯ টন চাল বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে। এ ছাড়া ১১টি বন্যা আশ্রয়কেন্দ্র করা হয়েছে।

কানাইঘাট উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান আব্দুল মুমিন চৌধুরী ও উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা সুমন্ত ব্যানার্জি গতকাল দিনব্যাপী উপজেলার বন্যাদুর্গত বিভিন্ন ইউনিয়ন পরিদর্শন করেন। এ সময় তাঁদের সঙ্গে ছিলেন লক্ষ্মীপ্রসাদ পূর্ব ইউপি চেয়ারম্যান তমিজ উদ্দিন ও ঝিংগাবাড়ী ইউপি চেয়ারম্যান আবু বকর।

এছাড়াও জকিগঞ্জে কয়েক দিনের প্রবল বর্ষণ ও পাহাড়ি ঢলে জকিগঞ্জে সুরমা ও কুশিয়ারা নদীর বিভিন্ন স্থানে ডাইক ভেঙে প্রবল বেগে লোকালয়ে পানি ঢুকেছে। ইতিমধ্যে সুরমা নদীর সাতটি ও কুশিয়ারা নদীর দুটি স্থানে ডাইক ভেঙে মানিকপুর, কাজলশার, বারহাল, জকিগঞ্জ সদর ও বিরশ্রী ইউনিয়ন প্লাবিত হয়েছে। খেতের পাকা বোরো ধান, পুকুর ও ফিশারির লাখ লাখ টাকার মাছ পানিতে তলিয়ে গেছে। ডুবে গেছে অনেক বাড়িঘর।

বারহাল ইউপি চেয়ারম্যান মোস্তাক আহমেদ চৌধুরী জানান, বারহালের নোয়াগ্রাম, উত্তর খিলোগ্রাম, শরিফবাদ, কচুয়া, চক গ্রামে সুরমা নদীর ডাইক ভেঙে জনপদ প্লাবিত হয়েছে। কয়েকটি গ্রামের মানুষ পানিবন্দী রয়েছে। ১০০০ হেক্টর জমির ফসল তলিয়ে গেছে পানিতে।

জকিগঞ্জ উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান লোকমান উদ্দিন চৌধুরী জানান, তিন হাজারের মতো লোক পানিবন্দী হয়ে পড়েছে।

আইনিউজ/এসএম

ফেসবুক পেইজ