‘লুটপাটের’ হিসাব তৈরির জন্য প্রস্তাবিত বাজেট: ফখরুল | Sylhet i News
শনিবার, ২৫ জুন ২০২২, ০৭:০৩ পূর্বাহ্ন



আই নিউজ ডেস্ক ::

প্রকাশ ২০২২-০৬-০৯ ১৫:৪২:৪৩
‘লুটপাটের’ হিসাব তৈরির জন্য প্রস্তাবিত বাজেট: ফখরুল

বর্তমান সরকার জনগণের প্রতিনিধিত্ব করে না তাই তাদরে বাজেট দেওয়ার অধিকার নেই বলে মন্তব্য করেছেন বিএনপির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। তিনি বলেন, ‘এটা আসলে লুটপাটের হিসাব তৈরির জন্য প্রস্তাবিত এ বাজেট। তারা দেশে একটা লুটপাটের রাজত্ব তৈরি করেছে।’


বৃহস্পতিবার (৯ জুন) বিকেলে সাবেক সাংসদ ও বিএনপি কেন্দ্রীয় নেতা এস এ খালেককে  দেখে তার বাসা সংলগ্ন ময়দানে ঢাকা মহানগর উত্তর বিএনপি কাফরুল থানা ৪টি ওয়ার্ডে কাউন্সিলে তিনি এ কথা বলেন।


মির্জা ফখরুল বলেন,আমরা অত্যন্ত খারাপ সময় অতিবাহিত করছি এটা শুধু বিএনপি'র জন্য নয় সমস্ত জাতি খারাপ সময় অতিক্রম করছে। এখন যারা জোর করে ক্ষমতায় বসে আছে তারা এদেশের মানুষের সকল অধিকারগুলো কেড়ে নিয়েছে। 


ফখরুল ইসলাম বলেন, সাংবাদিকরা বলছেন বাজেট হচ্ছে এ নিয়ে প্রতিক্রিয়া কি? প্রতিবছরই আমরা বাজেট নিয়ে প্রতিক্রিয়ার দিয়ে থাকি, এ বছর আর প্রতিক্রিয়া দিতে চাইনা। কারণ কোন বাজেটের প্রতিক্রিয়া দেব, কার বাজেটের প্রতিক্রিয়া দিব? কারা এই বাজেট করছে; যারা জনগণের প্রতিনিধিত্ব নয়। যাদের বাজেট দেয়ার কোন অধিকার নেই। যারা এই সমস্ত বাজেট তৈরি করে শুধু নিজেদের লুটপাটের জন্য। তারা কি করে ভবিষ্যতে আরও লুটপাট করবে তার একটি হিসাব তৈরি করছে।


বিএনপি মহাসচিব বলেন, এত টাকা বাজেট দিয়েছে। ওখান থেকে কত টাকা লুট করবে তার একটা হিসাব বের করছে। এ কারণেই এই বাজেট আমার কাছে এতটুকু গুরুত্ব পায় না। আর এ বিষয় নিয়ে আমি বেশি কিছু বলতে চাচ্ছি না। 


বিএনপির এই মুখপাত্র বলেন, দেশটাকে বাঁচাতে হবে। দলের প্রতিষ্ঠাতা জিয়াউর রহমান স্বাধীনতার ঘোষণা দিয়ে আমাদের যুদ্ধে অনুপ্রাণিত করেছিলেন। আমরা যুদ্ধ করে দেশ স্বাধীন করেছি। কোন ব্যক্তি বা কোন পরিবারের জন্য দেশ স্বাধীন করা হয়নি; দেশের মানুষের জন্য স্বাধীন করা হয়েছে। আমাদের দুর্ভাগ্য আজকে স্বাধীনতার ৫০ বছর পরেও সেই স্বাধীনতা নেই। আজকে আমাদের কথা বলার স্বাধীনতা নেই। 


তিনি বলেন, আওয়ামী লীগ যতদিন ক্ষমতায় থাকবে ততদিন দেশ ক্ষতিগ্রস্ত হবে জনগণ ক্ষতিগ্রস্ত হবে।


মির্জা ফখরুল আরও বলেন, যত কিছু উন্নয়ন,উন্নয়ন বলতে বলতে পাগল হয়ে গেছে। উন্নয়নটা কোথায়? অবকাঠামো বানাচ্ছে নিজেদের পকেট ভরছে। ৪২ শতাংশ লোক এখন দারিদ্র্যসীমার নিচে চলে গেছে। শতকরা ৪২ জন তারা দারিদ্র্যসীমার নিচে বাস করছে। এই অবস্থা নিয়ে লুটপাট করছে।


তিনি বলেন,মানুষ হাসপাতালে গিয়ে চিকিৎসা পায় না। তারা চিকিৎসা ব্যবস্থা ধ্বংস করে ফেলেছে। শিক্ষাব্যবস্থাকে এখন আর শিক্ষার কোন মানদণ্ড নেই। শিক্ষার মান এত নেমেছে যে আমাদের পাবলিক ইউনিভার্সিটি পাবলিক কলেজ থেকে যারা পাস করে ফিরে তারা বাইরে গিয়ে কোথাও জায়গা পায়না। এমন জায়গায় নিয়ে এসেছে। 


বিএনপি মহাসচিব বলেন,সাধারণ মানুষের জন্য সাধারণ মানুষের কল্যাণের জন্য এরা (আওয়ামী লীগ) কোন কাজ করে না। 


নেতাকর্মীর উদ্দেশ্যে তিনি বলেন, আমাদের লক্ষ্য হচ্ছে সম্পূর্ণরূপে একটি গণতান্ত্রিক দল হিসেবে প্রতিষ্ঠা করে গণতন্ত্রকে ফিরে পাওয়ার জন্য আমরা গণতান্ত্রিক সংগ্রাম করব। লড়াই করব। লড়াইয়ের মধ্য দিয়ে আবার আমরা দেশটাকে স্বাধীন করবো, গণতন্ত্রকে ফিরিয়ে আনব। বেগম খালেদা জিয়াকে মুক্ত করবো তারেক রহমানকে দেশে ফিরিয়ে আনব।


তিনি আরও বলেন, আমাদের মনে রাখতে হবে এই সংগ্রামটা এই লড়াইটা কোন ব্যক্তির জন্য নয়। এটা দেশকে রক্ষা করার জন্য, ৭১ সালে আমরা যেমন যুদ্ধ করেছিলাম। এখানে যারা বসে আছে নেতারা ৯০ সালে যেমন গণতন্ত্রের জন্য লড়াই করেছিল সংগ্রাম করেছিল। আজকে আবার সেই গণতন্ত্রকে ফিরিয়ে আনার জন্য দেশটাকে বাঁচানোর জন্য আমাদের আরেকটা যুদ্ধ করতে হবে সে যুদ্ধে আমাদেরকে জয় লাভ করতে হবে। 


মির্জা ফখরুল বলেন,আমাদের বিকল্প কোনো পথ নেই। আমরা যদি বাঁচতে চাই দেশকে বাঁচাতে চাই তাহলে আন্দোলন, আন্দোলন, আন্দোলন...। আন্দোলনের মধ্য দিয়েই তাদের পরাজিত করে দেশকে স্বাধীন করতে হবে।


এ সময় ঢাকা মহানগর উত্তর বিএনপি'র আহবায়ক আমানউল্লাহ আমানসহ সংগঠনের বিভিন্ন পর্যায়ের নেতাকর্মীরা উপস্থিত ছিলেন।



আই নিউজ / এপি

ফেসবুক পেইজ