বন্যার্তদের দুর্ভোগ লাঘবে নিজের জমিকেটে পানি প্রবাহের ব্যবস্থা করলেন হাজী সেলিম | Sylhet i News
শনিবার, ২৫ জুন ২০২২, ০৭:২২ পূর্বাহ্ন



শ্রীমঙ্গল প্রতিনিধি :>>

প্রকাশ ২০২২-০৬-২১ ১৪:১০:৪১
বন্যার্তদের দুর্ভোগ লাঘবে নিজের জমিকেটে পানি প্রবাহের ব্যবস্থা করলেন হাজী সেলিম

শ্রীমঙ্গলে বানের পানি প্রবাহে ব্যবস্থা না থাকায় কয়েক গ্রামের মানুষ অসহনীয় দুর্ভোগে পড়েছেন। এতে করে উপজেলার ২নং ভুনবীর ইউনিয়নের কয়েকটি গ্রামের প্রায় ১৫ -২০ হাজার মানুষ পানিবন্দী হয়ে পড়েছেন।

জানা গেছে, চলতি ভারী বৃষ্টিপাতে লয়ারপুল (পুরারগাঁও), আ/ঐ ও সাতগাঁও চৌমহনা এলাকার বিস্তৃর্ণ ফসলী জমি ও বাড়ি-ঘর প্লাবিত হয়ে পড়ে। এতে করে সেখানকার কয়েক হাজার মানুষ চরম দুর্ভোগে পড়ে। কিন্তু পানি প্রবাহের প্রাকৃতি ব্যবস্থা না থাকায় তীব্র জলাবদ্ধতা দেখা দেয়।

জলাবদ্ধতা থেকে মানুষের দুর্ভোগ লাঘবে স্থানীয় হাজী সেলিম মিয়া পানি প্রবাহের জন্য তার একটি ফিসারির পার ঘেষে ককেশ’ ফুট মাটি কেটে রাস্তা করে দেন। সেদিক দিয়ে পানি প্রবাহ শুরু হলে স্থানী কয়েক ব্যক্তি পানি প্রবাহের শেষ মাথায় বাধ দিয়ে মুখ বন্ধ করে দেয়।

এনিয়ে জটিলতা সৃষ্টি হলে সোমবার শ্রীমঙ্গল উপজেলা চেয়ারম্যান ভানু লাল রায় ও  সহকারী কমিশনার (ভুমি) সন্দীপ তরফদার ঘটনাস্থল পরিদর্শণ করেন। এসময় স্থানীয় মেম্বার নিয়াজ ইকবাল মাসুদ পানি প্রবাহ বন্ধের জন্য হাজী সেলিমকে দায়ী করে তার ফিসারীর কেটে পানি প্রবাহের দাবী জানান।

এসময় উপজেলা চেয়ারম্যান ভানু লাল রায় জানতে চান- ফিসারীতে কোন সরকারী জায়গা আছে কি না? এসময় স্থানীয়রা ফিসারীতে কোন সরকারী জায়গা নেই বলে জানান।

স্থানীয় বাসিন্দা দুলাল হাজী বলেন, আকষ্মিক ভারী বৃষ্টিতে সৃষ্ট বন্যায় এখানে অনেক এলাকায় সাময়িক জলাবদ্ধতার সৃষ্টি হয়। কিন্তু বার বার বলা সত্বেও স্থানীয় মাসুক মেম্বার  এই জলাবদ্ধাতা নিরসনে কোন ব্যবস্থা নেই নি।

ফলে হাজী সেলিম মানুষের দুর্ভোগ লাঘবে নিজের মালিকানার ফিসার একটি দিকে মাটি কেটে রিং কালভার্ট বসিয়ে পানি প্রবাহের ব্যবস্থা করেন। এতে করে গ্রামের মানুষজন খুশি হয়েছে। অনেক পানি এ দিক দিয়ে সড়ে পড়ায় জলাবদ্ধতা কমে এসেছে। কিন্তু মাসুক মেম্বার নির্বাচনী পূর্ব শত্রুতার জের ধরে তার লোকজন দিয়ে পানি আটকিয়ে ফায়দা লোটার চেষ্টা করছে।

দুলাল হাজী বলেন, হাজী সেলিম ব্যক্তিগত উদ্যোগে এলাকার ও এলাকার মানুষের উন্নয়নে অনেক কাজ করেছেন। এসব কাজের জন্য গ্রামের মানুষ তার প্রতি কৃতজ্ঞ।

এ ব্যপারে ইউপি সদস্য নিয়াজ ইকবাল মাসুদ বলেন, বন্যা ও পাহাড়ী ঢলে ইউনিয়নের ২টি ওয়ার্ডেও প্রায় ১৫ থেকে ২০ হাজার মানুষ জলাবদ্ধার মুখে পড়েছে। অনেক ফসলি জমি পানিতে তলিয়ে গেছে। তিনি বলেন, হাজী সেলিম সোমবারও সুনামগঞ্জের বন্যার্ত মানুষের সহায়তায় ৫ লাখ টাকার ত্রান পাঠিয়েছেন। তিনি ইচ্ছে করলে ফিসারী কেটে পানি বের হওয়ার রাস্তাও করে দিতে পারেন বলে জানান মেম্বার নিয়াজ ইকবাল মাসুদ।

জানতে চাইলে কাতার প্রবাসী হাজী সেলিম ফাউন্ডেশনের প্রতিষ্ঠাতা হাজী সেলিম মঙ্গলবার টেলিফোনে বলেন, ‘জলাবদ্ধতা নিরসনে মানুষের দুর্ভোগের কথা বিবেচনা করে আমি ফিসারির এক দিকে ৬ ফুট প্রসস্ত রিং কালভার্ট বসিয়ে পানি বের হওয়ার রাস্তা করে দিয়েছি। অথচ স্থানীয় মেম্বার নিয়াজ ইকবাল মাসুদ তার লোক দিয়ে পানি নিষ্কাসনের রাস্তার মুখে বাধঁ দিয়ে রেখেছে। তিনি বলেন, নিয়াজ ইকবাল মাসুদ আমার কাছে অনৈতিক দাবী এবং উদ্দেশ্যমূলকভাবে আমার বিরুদ্ধে মিথ্যা ও বানোয়াট তথ্য প্রচার করে বিভ্রান্তি ছড়াচ্ছেন। 

আইনিউজ/জেইউ

ফেসবুক পেইজ