মাধবপুর মাদকের ছড়াছড়ি, গডফাদাররা ধরা ছোঁয়ার বাহিরে | Sylhet i News
বুধবার, ২০ অক্টোবর ২০২১, ১২:৩৪ পূর্বাহ্ন

মাধবপুর প্রতিনিধি

প্রকাশ ২০২১-০৯-১৬ ১৮:৪৩:১৮
মাধবপুর মাদকের ছড়াছড়ি, গডফাদাররা ধরা ছোঁয়ার বাহিরে

হবিগঞ্জের মাধবপুর ভারতসীমান্ত ঘেষা পূর্বাঞ্চল ও দক্ষিনাঞ্চল পাহাড় ও চা বাগান এখন মাদকের ট্রানজিট রুট। সারা দেশব্যাপী সরকার মাদকের বিরুদ্ধে জিরো ট্রলারেন্স ঘোষণা করলেও চোরকারবারীরা নির্জন পাহাড় ও চা বাগানকে মাদকের নিরাপদ রুট হিসেবে বেঁচে নিয়েছে। ধর্মঘর, হরষপুর, শিয়ালউড়ি, মালঞ্চপুর, চৈতন্যপুর, চৌমুহনী ও শ্রীধরপুর, তেলিয়াপাড়া চা বাগান, ২০নং সুরমা চা বাগান সীমান্ত এলাকায় তারকাটা বেড়া ভেদ করে বিশেষ কৌশলে গাঁজা, ইয়াবা, ফেনসিডিল ঢুকছে। এ ব্যাপারে আইন প্রয়োগকারী সংস্থা তৎপর থাকলেও থামাতে পারছেন না মাদক পাচার। মাঝে মধ্যে কিছু অভিযান পরিচালিত হলে মাদক বহনকারী গ্রেপ্তার হলেও মূল হোতারা তাকে ধরাছোয়ার বাহিরে।

গত ১২ আগস্ট মাধবপুর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা শেখ মঈনুল ইসলাম মঈন এর নেতৃত্বে সীমান্তে পাহাড় ও চা বাগান এলাকায় মাদক ও চোরাচালান বিরোধী টাস্কফোর্স অভিযান পরিচালিত হয়। ইতিমধ্যে মাদক পাচারে ধরা পড়েছেন মাধবপুর থানা পুলিশ সদস্য। ধর্মঘর থেকে বাঘাসুরা পর্যন্ত এ চক্রের শতাধিক সদস্য এ পেশায় সক্রিয় রয়েছেন।

সীমান্তরক্ষী বাহিনীর সীমিত লোকবল পরিবহন সমস্যা ও দুর্ঘম পাহাড়ের কারণে অবৈধ চোরাচালান ব্যবসা পুরোপুরি নিয়ন্ত্রণে আনতে পারছে না। মাদক চোরাচালান ব্যবসা করলেও চলাফেরা বেশভূষা দেখে বুঝার উপায় নেই তাদের নেতৃত্বে এ সীমান্তে হচ্ছে বড় ধরনের চোরা চালানের ব্যবসা। তারা নিজেকে রাখে সব সময় ধরা ছোঁয়ার বাইরে।

মাদক দ্রব্যের তালিকায় গাঁজা, ইয়াবা, ফেনসিডিল ও বিভিন্ন ব্র্যান্ডের মদ ইত্যাদি জীবনঘাতি পণ্য । এসব মাদকের ছড়াছড়ি এলাকায় সুস্থ মানুষদের জীবন অসহনীয় হয়ে উঠেছে।

তাদের স্কুল,কলেজ পড়ুয়া সন্তানরা অভিভাবকদের চোখকে ফাঁকি দিয়ে আড়ালে আবডালে থেকে মাদকাসক্ত হয়ে পড়ছে। প্রতিদিন শত শত উঠতি বয়সের যুবক মাদক সেবনের জন্য সীমান্তবর্তী এলাকায় মোটর সাইকেল, কার, মাইক্রোবাস করে চলে আসে।

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক জনৈক অভিভাবক এই প্রতিবেদককে জানান, মাদকের থাবা থেকে তাদের উত্তরাধিকারীদের রক্ষা কল্পে অশ্রু বিসর্জন করেন। একপর্যায়ে তিনি আইন প্রয়োগকারী বাহিনীকে আরো সোচ্ছার হবার কথা জানান। অন্যথায় মাদকের আগ্রাসন তরুন যুবসম্প্রদায়কে কোন অন্ধকারে নিক্ষেপ করবে তা ভাবাও যায় না। পরিনতিতে এসব উঠতি বয়সের যুবকরা চুরি, ডাকাতি, ছিনতাইয়ে চলে যেতে পারে।

আইন শৃঙ্খলা বাহিনী চেষ্টা করেও বন্ধ করতে পারছে না পাঁচারকারীদের দমাতে। আইন প্রয়োগকারী সদস্যদের দৃষ্টির অগোচরে যে সকল মাদকদ্রব্য সীমান্ত অতিক্রম করে দেশের অভ্যন্তরে ঢুকছে, তা রোধ করা খুবই কষ্টসাধ্য। প্রশ্ন হচ্ছে, সমূহ অপকর্মের হোতা যারা তাদের বিশাল সিন্ডিকেট রয়েছে। তাদের রয়েছে বিশাল মাদক বহনকারী সদস্য। অনেক সময় উঠতি বয়সের যুবকদের টাকার লোভ দেখিয়ে মাদক পরিবহনের কাজে ব্যবহার করে। আছে গডফাদারও। এদের বিরুদ্ধে সাধারণ মানুষ মুখ খুলতে নারাজ। কারন এ সকল অর্থলোভী অবৈধ মাদক সম্রাটদের মূল অস্তিত্ব খুবই মজবুত ও বহুদুর প্রসারিত।

প্রাণের ভয়ে শান্তিপ্রিয় মানুষ নিরব দর্শকের ভূমিকায় থাকেন। এহেন পরিস্থিতিতে প্রশাসন অগ্রনী ভূমিকা নিয়ে জনগনকে সাথে নিয়ে সামাজিক আন্দোলন গড়ে না তুললে মাদকের করাল গ্রাস থেকে পরিত্রান পাওয়া অসম্ভব হয়ে পড়বে।

অভিজ্ঞমহলের অভিমত, অনৈতিক ও অসামাজিক মাদক বানিজ্য অচিরেই বন্ধ না হলে আমাদের সমাজ জীবন এক মানবসৃষ্ট মারাত্মক বিপর্যয়ের মুখে পড়বে। হবিগঞ্জ ৫৫ বিজিবির অধিনায়ক লে. কর্ণেল সামিউন্নবী চৌধুরী সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি মাদক প্রসঙ্গে বলেন, সীমান্তে বিজিবি সদস্যদের টহল জোরদার রয়েছে। মাদকের বিরুদ্ধে বিজিবির অবস্থান জিরো ট্রলারেন্স। মাদকের বিরুদ্ধে বিজিবি পাশাপাশি প্রত্যেকটি পরিবারের কর্তাকে মুখ্য ভুমিকা পালন করতে হবে। মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশে বিজিবি সীমান্তে অতন্দ্র প্রহীর মত কাজ করছে।

মাধবপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা আব্দুর রাজ্জাক জানান, মাদকের বিরুদ্ধে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিয়ে অভিযান অব্যাহত রয়েছে। মাদক আটক হলে দায়ী ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে নিয়মিত মামলা হচ্ছে। কোন মাদক ব্যবসায়ীকে ছাড় দেওয়া হচ্ছে না। গত মাসে আমরা মাদকের ১০৫ টি মামলা দিয়েছি।

আইনিউজ/এসএম

ফেসবুক পেইজ